বাদামি মাছরাঙা পেঁচা (Brown Fish Owl), যার বৈজ্ঞানিক নাম Ketupa zeylonensis, দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম বৃহৎ এবং শক্তিশালী পেঁচা। এটি মূলত জলাশয়ের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে এবং এর দক্ষ মাছ শিকারের ক্ষমতার জন্য পরিচিত।
Ketupa zeylonensis
| Scientific Name | Ketupa zeylonensis |
|---|---|
| Status | LC অসংকটাপন্ন |
| Size | 56-56 cm (22-22 inch) |
| Colors |
Brown
Brown
|
বাদামি মাছরাঙা পেঁচা (Brown Fish Owl), যার বৈজ্ঞানিক নাম Ketupa zeylonensis, দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম বৃহৎ এবং শক্তিশালী পেঁচা। এটি মূলত জলাশয়ের কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে এবং এর দক্ষ মাছ শিকারের ক্ষমতার জন্য পরিচিত।
এই পেঁচাটি আকারে বেশ বড়, যা প্রায় ৫৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এদের গায়ের রঙ বাদামি এবং তাতে কালো বা গাঢ় বাদামি রঙের লম্বাটে রেখা থাকে। এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো উজ্জ্বল হলুদ চোখ এবং মাথার দুই পাশে কানের মতো খাড়া পালক বা 'ইয়ার টাফটস'। এদের পা পালকহীন এবং মাছ ধরার সুবিধার্থে পায়ের নিচে রুক্ষ আঁশ থাকে।
বাদামি মাছরাঙা পেঁচা সাধারণত নদী, হ্রদ, খাল, জলাভূমি এবং ম্যানগ্রোভ বনের আশেপাশে বাস করে। এরা ঘন গাছপালা পূর্ণ এলাকা পছন্দ করে যেখানে পানির উৎস কাছাকাছি থাকে। দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত এবং শ্রীলঙ্কায় এদের প্রচুর দেখা যায়।
এদের প্রধান খাদ্য হলো মাছ এবং কাঁকড়া। তবে সুযোগ পেলে এরা ব্যাঙ, ছোট ইঁদুর, সাপ এবং অন্যান্য ছোট পাখিও শিকার করে। এরা পানির উপরিভাগে ওত পেতে থাকে এবং নখর দিয়ে ছোঁ মেরে মাছ তুলে নেয়।
এদের প্রজননকাল সাধারণত নভেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। এরা সাধারণত গাছের কোটরে, পাথরের খাঁজে বা অন্য বড় পাখির পরিত্যক্ত বাসায় ডিম পাড়ে। স্ত্রী পেঁচা সাধারণত ১ থেকে ২ টি সাদা রঙের ডিম দেয় এবং ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে প্রায় ৩৮ দিন সময় লাগে।
অন্যান্য পেঁচার মতো এরা পুরোপুরি নিশাচর নয়; গোধূলি বেলা বা মেঘলা দিনে এদের প্রায়ই সক্রিয় দেখা যায়। এরা খুব গম্ভীর স্বরে 'হুপ-হুপ' শব্দে ডাক দেয়। এরা সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকতে পছন্দ করে এবং দিনের বেলা ঘন গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেয়।
আইইউসিএন (IUCN) এর লাল তালিকা অনুযায়ী, বাদামি মাছরাঙা পেঁচা বর্তমানে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত (Least Concern) হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। তবে জলাভূমি ভরাট এবং বন উজাড়ের কারণে এদের সংখ্যা কিছু এলাকায় হ্রাস পাচ্ছে।
বাদামি মাছরাঙা পেঁচা আমাদের বাস্তুসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জলাশয়ের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এই চমৎকার পাখিটি এবং এদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষা করা আমাদের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
Official Distribution Data provided by BirdLife International and Handbook of the Birds of the World (2025)